শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রীতিলতা

আজীবন লড়াকু প্রীতিলতা তৎকালীন সময়ের বিপ্লবী দলের  নেতৃত্বকে প্রশ্ন করেছিলেন , “…সত্যাগ্রহে বোনেরা ভাইদের পাশে দাঁড়াতে পারে তাহলে বিপ্লবী আন্দোলনে নয় কেন? এটা কী এই জন্য যে পদ্ধতিটা ভিন্ন, নাকী এই কাজে অংশগ্রহণের পক্ষে নারীরা অনুপোযুক্ত? পদ্ধতিগতভাবে সশস্ত্র বিদ্রোহ কখনই হীন নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই সাফল্যের সঙ্গে এই পদ্ধতির প্রয়োগ হয়েছে এবং শত শত নারীরা তাতে অংশও নিয়েছে। তাহলে একমাত্র ভারতবর্ষে তা কেন নিন্দনীয় হবে? স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদানের প্রশ্নে নারীরা পুরুষের চেয়ে দুর্বল, এরকম মনে করা নারীদের প্রতি অবিচার নয় কি? এই ভ্রান্ত চিন্তা অবসানের সময় এসেছে। নারীরা পিছিয়ে আছে, কারণ তাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সংগ্রাম যত কঠিন যত বিপদসঙ্কুল হোক না কেন মেয়েরা এখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তারা আর পিছিয়ে থাকবে না ভাইয়ের পাশে দাঁড়াবে। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আমার বোনেরা আর নিজেদের দুর্বল ভাববে না। সমস্ত বিপদ মোকাবিলায় নিজেদের তৈরি রাখবে এবং বিপ্লবী আন্দোলনে হাজারে হাজারে সামিল হবে।”  প্রীতিলতা তিল তিল করে বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন এবং সমস্ত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত  হয়ে আছেন। আজকের দিনের বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতার মতো সমস্ত বাধা অতিক্রম করে দাঁড়ানোই আমাদের দায়িত্ব।

প্রীতিলতার সাহস, তেজ, বিচক্ষণতা, একনিষ্ঠতা বিপ্লবী আন্দোলনের শিক্ষাগুরু মাস্টারদা সূর্যসেনকে   মুগ্ধ করেছিল। তাইতো ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণের দলনেতা হিসেবে প্রীতিলতা যখন প্রস্তুত তখন তিনি ‘বিজয়া’ তে বলেছিলেন, “তোকে এই শেষ সাজিয়ে দিলাম। তোর দাদা তো তোকে জীবনে আর কোনদিন সাজাবে না।”  “…পবিত্র, নিখুঁত প্রতিমাটিকে এক হাতে আয়ুধ, অন্য হাতে অমৃত দিয়ে বিসর্জ্জন দিয়ে এসেছিলাম, তার কথাই আজ সবচেয়ে বেশী মনে পড়ছে।”

error: Content is protected !!