২৭ জুন ১৮৮০ সালে আলাবামার টাসকাম্বিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৯ মাস বয়সে ১৯৮২ সালে হেলেন হিলার এক মারাত্মক অসুখে পড়েন। ভীষণ জ্বরে অচৈতন্য হয়ে পড়েন। ডাক্তারদের আপ্রাণ চেষ্টায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসলেও দৃষ্টিশক্তি লোপ পায়। কথা বলা ও কানে শোনা বন্ধ হয়ে গেল। বাবা-মায়ের প্রথম আদরের সন্তান ফুটফুটে হেলেন পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য উপভোগ থেকে শৈশবে বঞ্চিত হল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাবা-মা দুঃচিন্তা বেড়ে গেল। সেই সময় ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের সমাজ ভালোভাবে গ্রহণ করত না। তাদের সমস্ত দায়িত্ব এড়িয়ে চলত। কষ্টে বাবা-মার দিন কাটত। অন্ধদের জন্য কয়েকটি স্কুল হয়েছে তবে সেখানে বধিরদের ভর্তি করে না। হেলেন একাধারে অন্ধ-বধির-মূক। কে লেখা-পড়া শেখাবে হেলেনকে? কীভাবে কাটবে ওর ভবিষ্যৎ ?
এসময় হেলেনের মা কেট কেলার ডিকেন্সের ‘ আমেরিকান নোটস’ পড়ে জানতে পারেন অন্ধ ও বধিরদেরও জন্য পড়ানোর পদ্ধতি আবিস্কৃত হয়েছে। ড. হাও নামে একজন এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এখানেই তিনি পড়লেন ল্যারা ব্রিজম্যানের কথা। এই ব্রিজম্যান ছিল অন্ধ-বধির-মূক।
বাবা আর্থার কেলার হেলেনের চোখ ভালো করার চেষ্টা ছাড়েননি। বাল্টিমোরে একজন ডাক্তারের খোঁজ পাওয়া গেছে যার নাম ড. কিসহোম। তিনিই আর্থার কেলারকে ড. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের (১৮৪৭-১৯২২) সঙ্গে যোগাযোগ করে দেন। তিনি ছিলেন জগত বিখ্যাত বিজ্ঞানী যিনি ১৯৭৬ সালে টেলিফোন আবিষ্কার করেন।
অসাধারণ পরোপকারী গ্রাহাম আর্থারকে খোঁজ দেন পারকিন্স ইনস্টিটিউশনের ডিরেক্টর মি. অ্যানাগনস্রে সঙ্গে হেলেনের শিক্ষা সম্পর্কে যোগাযোগ করতে বলেন। এই পারকিন্স ইনস্টিটিউশন থেকে হেলেনের জীবনের মুক্তিদাত্রী শিক্ষয়িত্রী মিস্ সালিভ্যান আসেন হেলেনকে আলোর পথের সন্ধান দিতে। মিস্ সালিভ্যান ও হেলেনের জীবন একসুত্রে গাঁথা। এই শিক্ষয়িত্রীর মাধ্যমে হেলেন ধীরে ধীরে আলোর পথ পান এবং সমস্ত প্রতিকূলতা দূর করে বিশ্বে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেন। ১ জুন ১৯৬৮ সালে বিস্ময় সৃষ্টিকারী নারী পৃথিবী থেকে চলে গেলেও আমাদের মাঝে এখনও বেঁচে আছেন তার কর্মের মধ্যদিয়ে।
তাঁর বিখ্যাত বইগুলো হলো
১. দ্য স্টোরি অব্ মাই লাইফ’
২. দ্য ওয়াল্ড আই লিভ ইন
৩. আউট অব্ দি ডার্ক
৪. মাই রিলিজিয়ন
৫. মিডস্ট্রিম-মাই লেইটার লাইফ
৬. টিচার-অ্যান সালিভ্যান ম্যাসি
৭. দ্য সঙ্ অব দি স্টোন ওয়াল
৮. দ্য ওপেন ডোর
৯. লেট আস্ হ্যাভ ফেইথ্
১০. অপটিমিজম, অ্যান এসে
১১. পিস্ অ্যাট ইভেনটাইড্
এছাড়াও ১৯১৪ সালে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈনিকদের পাশে দাঁড়ান।
লেখক: মর্জিনা খাতুন, নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী