ন্যায়বিচার আছিয়ার অধিকার

গত কয়েকদিন ধরে আছিয়া ছিল আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সকলকে কাঁদিয়ে ৮ বছরের আছিয়া  বেঁচে গেলেও  অসংখ্য জীবিত আছিয়াদের লড়তে হবে বিচারের দাবিতে। চুপ করে থাকতে চাইলেও পারছি না।  যে পাশবিক নির্যাতনের কারণে আছিয়ে হারিয়ে গেল, ১৯৯৫ সালেও একই পাশবিক নির্যাতনের কারণে আমরা হারিয়েছিলাম ইয়াসমিনকে। ইয়াসমিন হত্যার সাথে জড়িত অনেকের ফাঁসি হলেও মূল হোতা আড়ালে থেকে গেছে।  সেদিন ইয়াসমিন হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে দিনাজপুরবাসীকে জীবন দিতে হয়েছিল। রাষ্টীয় আইনে সুস্থভাবে আমাদের বিচার পাওয়ার কথা থাকলেও দাবি আদায়ের জন্য আমাদের  বার বার রাস্তায় নামতে হয়, জীবন দিতে হয়। আছিয়ার ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়।

আছিয়ার ধর্ষণকারীদের বিচার চাইতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। নারীনেত্রীরা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। নারী বিদ্বেষী বক্তব্যে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শাহবাগী বলে ফেসবুকে গালিসহ হেন কোনো ভাষা নেই যা ব্যবহার করা হচ্ছে না। নারী বিদ্বেষী এই বক্তব্য নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়তে সহযোগিতা করছে বলে মনে করি। “সাইবার ক্রাইম” করলে সাধারণ মানুষের শাস্তি হয়, কিন্তু যারা নারী বিদ্বেষী পোস্ট দেয়, তাদের বক্তব্য কেন  স্যোসাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ায়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পোশাকের কারণে ছাত্রীকে হেনস্থার ঘটনা ঘটল তখন অনেকে নীরব ছিলেন। প্রতিবাদের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য বন্ধ হয়নি। বিস্ময় হলেও সত্য যে, ধর্মকে নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা সবসময় সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসাই করে। পর্দার আড়ালে থেকে যারা ব্যবসা করে তাদের আমরা কালোবাজারী বলি। একইভাবে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য যারা প্রদান করে তারাও এই কালোবাজারী। মানুষ হিসেবে তারা কখনো নারীকে মর্যাদার আসনে রাখতে চায় না। এই কালোবাজারী ব্যক্তিদের চিনুন, তাদের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিবাদ জারী রাখুন।

এখন প্রতিবাদের সময়। আছিয়া আমাদের আহ্বান করে গেছেন প্রতিবাদ ও ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে। শুধু আছিয়া নয়, ফুটফুটে ছোট তৃষা, তনু, মুনিয়াসহ সকলে বাংলার বিবেকবান মানুষদের আহবান করে গেছেন ন্যায়প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সামিল হওয়ার জন্য। আসুন, বেদনাকে শক্তিতে পরিণত করে নিজেদের তথা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভুমিকা পালন করি।

error: Content is protected !!