৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ দিবসটি ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দিন। নানা আড়ম্বরের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। কিন্তু এর পিছনের ইতিহাস আমরা প্রায় ভুলে যেতে বসেছি। আসলে নারীদিবস কি, কেন বা আমরা পালন করি। এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য বা কি ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করাই এ লেখনীর মূল বিষয়।
আন্তর্জাতিক নারীদিবসের ইতিহাস রচনা করেছেন শ্রমিক নারীরা। প্রায় দুইশত বছর আগে শিল্প বিপ্লবের পর নারীরা শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দিতে শুরু করে। নারীরা যখন শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগদান করে তখন তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ যেমন করা হত তেমনি স্বল্পমজুরির দিয়ে তাদের সস্তা শ্রম কিনত। তাদের শ্রম ঘন্টাও নির্ধারিত ছিল না। তাদের এমন কাজ দেয়া হতো যা ছিল সময়সাপেক্ষ। অথচ মজুরি ছিল পুরুষদের তুলনায় অর্ধেক। কিন্ত অমানবিক পরিবেশ হলেও শ্রম বিক্রি ছাড়া নারীদের কোন উপায় ছিল না। যদিও এ সময়কালে পুরুষ শ্রমিকরা নারী শ্রমিকদের তুলনায় সর্বদিক দিয়ে এগিয়ে ছিল।
ঊনিশ শতকের শিল্প বিপ্লবের সাফল্য এসেছিল মূলত নারী ও শিশু শ্রমিকদের শোষণের উপর ভিত্তি করে। সেসময় বস্ত্র কারখানায় মাত্র ২৩ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক ছিল আর বাকী সবাই ছিল নারী ও শিশু শ্রমিক, যাদেরকে কাজ করানো হতো পুরুষদের অর্ধেক বেতনে। বাংলাদেশেও গার্মেন্টে ৩৫ শতাংশ পুরুষ কাজ করে, বাকী সবাই নারী শ্রমিক। নারীশ্রমিকদের শ্রমে-ঘামে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হলেও তাদের নূন্যতম মানসম্মত জীবন-যাপনের জন্য এখনও মজুরি নির্ধারিত হয়নি। বাংলাদেশে যেমন শ্রমিকরা তাদের ন্যূনতম মজুরি, ছুটি ও কর্মঘন্টার দাবিতে আন্দোলন করে তেমনি ১৮২০ সালের দিকে আমেরিকা ও ইংল্যন্ডে বিভিন্ন কারখানায় অমানবিক কাজের পরিবেশ, বেতন বৈষম্য এবং নানা নির্যাতনের প্রতিবাদে নারী শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ে সামিল হয়। ধর্মঘট আহবান করে। আবার ঐ আমেরিকায় বর্নবাদের প্রতিবাদে শ্রমিকরা প্রতিবাদ গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভেনিয়ার বস্ত্র কারখানার প্রায় ৫০০০ নারী-পুরুষ উভয় শ্রমিকরা আন্দোলনে অংশ নেয়। এভাবে আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে।
১৮৫৭-এর ৮ মার্চ নিউইয়র্কের সেলাই কারখানায় নারী শ্রমিকরা উপযুক্ত বেতন, উন্নত কর্মপরিবেশ ও ১০ ঘন্টা কর্মদিবসের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে। এ আন্দোলন দমনে পুলিশ সেদিন হাজার হাজার নারী শ্রমিকদের মিছিলে গুলি চালায়। এতে আহত ও গ্রেফতার হয় অসংখ্য নারী শ্রমিক। ধারণা করা হয়, নারী আন্দোলনের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম গুলি চালানোর ঘটনা। ফলে আন্দোলন আরো জোরদার হয়। এর তিনবছর পর ১৮৬০ সালের ৮ তারিখে সুঁই কারখানার নারী শ্রমিকরা তাদের নিজস্ব ইউনিয়ন গঠন করতে সক্ষম হন। একদিকে নারী আন্দোলন যেমন সংগঠিত রূপ নিতে থাকে তেমনি অন্যদিকে শ্রমিক আন্দোলনও দানা বাঁধতে থাকে। সে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে ১৮৮৬ সালের ১ মে। জন্ম নেয় বিশ্ব শ্রমিক দিবসের ইতিহাস।
অন্যদিকে ১৮৮৮-৮৯ সালে ইংল্যান্ডে ম্যাচ ফ্যক্টরির নারী শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। ম্যাচ ফ্যাক্টরির এই নারী শ্রমিকদের সাথে যোগ দিতে থাকে সিগারেট, বিস্কুট, কম্বল, পাট, জ্যাম ও আচার ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরাও। অর্থ্যাৎ পুরো ঊনিশ শতক জুড়ে চলতে থাকে নারীশ্রমিকদের আন্দোলন তথা শ্রমিক আন্দোলন।
এসময়কালেই ১৮৮৯ সালে মহামতি ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের উদ্যোগে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আর্ন্তজাতিক শ্রমিক সম্মেলন। এ সম্মেলনে জার্মান কমিউনিস্ট নেত্রী ক্লারা জেটকিন নারী-পুরুষের সমানাধিকারের প্রশ্ন উত্থাপান করে বক্তৃতা দেন। তাঁর এ বক্তব্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীদের মধ্যে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর ১৯০৭ সালে স্টুটগার্ডে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ১৫টি দেশের ৫৯ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এই সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই সালে ‘আন্তর্জাতিক নারী সংস্থা’ (International Women’s Bureau) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি তার সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই সম্মেলনেও নারীদের ভোটাধিকারের দাবি জোড়ালো হয়ে উঠে।
এরপর ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ আমেরিকার নিউইয়র্কে শ্রমঘন্টা কমানো, মজুরি বৃদ্ধি ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ভোটাধিকারের দাবিতে প্রায় ১৫,০০০ নারী ও অভিবাসী শ্রমিকদের অংশগ্রহণে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তাদের শ্লোগান ছিল ‘Bread and Roses’. ‘Bread’ ছিল তাদের অর্থনেতিক নিশ্চয়তার প্রতীক এবং ‘Roses’ ছিল তাদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতীক। এই সমাবেশ বিভিন্ন দেশের সমাজতান্ত্রিক নারী আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ঐ দিবসের স্মরণে সোসালিস্ট পার্টি অব আমেরিকা’ ১৯০৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি আমেরিকাব্যপাী ‘জাতীয় নারী দিবস’ পালনের ঘোষণা দিয়েছিলো। একই বছরের নভেম্বর মাসে ট্রায়াঙ্গেল শার্টওয়েস্ট কারখানায় শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করেছিলো। ধর্মঘটরত শ্রমিকদের ৮০ শতাংশই ছিলো নারী। তাদের এ ধর্মঘট ১৯১০ সালের ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত চলতে থাকে। ঐ একই সালে ‘মে দিবসে’ ৬০ হাজার শ্রমিক এর প্রতিবাদে সমাবেশ করে। সমস্ত দিক থেকে এ আন্দোলনের প্রভাব ছিল বিশাল। একদিকে শ্রমিক আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছিল , অন্যদিকে নারী-পুরুষের ভোটাধিকারের দাবিও জোড়ালো হয়ে উঠেছিল।
এই উত্তাল পরিস্থিতিতে ১৯১০ সালের আগষ্ট মাসে কোপেনহেগেনে সমাজতন্ত্রীদের “দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন” অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সমাজতন্ত্রী নেত্রী ক্লারা জেটকিন ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালনের প্রস্তাব করেন। তাঁর প্রস্তাবে ৮ মার্চ “আন্তর্জাতিক নারী দিবস” পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ঐ বছরই ‘আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারীদের দ্বিতীয় সম্মেলন’ও কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৭ টি দেশের ১০৩ জন নারী প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনেও ক্লারা জেটকিন সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন। এই সম্মেলনে নিউইয়র্কের নারী শ্রমিকদের আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিয়ে ক্লারা জেটকিন প্রতিবছর ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মহামতি লেনিনের সমর্থনে অপরাপর সদস্যবৃন্দ সেই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এ সম্মেলনে স্থির হয় মার্চ মাসের যে কোন দিন এই দিবসটি পালন করা হবে। পরের বছর অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড এবং জার্মানিতে প্রথমবারের মতো নারী দিবস পালিত হয়। ১৯১৩ ও ‘১৪ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রতিবাদ হিসেবে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ১৯১০ থেকে ১৯১৩ পর্যন্ত মার্চের যে কোন দিন বিভিন্ন দেশে নারী দিবস পালন করা হত। কিন্তু, ১৯১৪ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হচ্ছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তোর পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ নারী অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ঘোষণা দিতে শুরু করে। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা দেয় যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের সমানাধিকার স্বীকৃতি পায়। ১৯৫১ সালে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা নারী ও পুরুষের সমান মজুরির চুক্তি অনুমোদন কের। ১৯৫২ সালে নারীর রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি হয়। এ চুক্তি অনুযায়ী “নারী সকল নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে ও সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং পুরুষের মতো নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেব কাজ করতে পারবে”। নানা ঘটনা পরম্পরায় ১৯৭৫ সালকে জাতিসংঘ নারী বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চ কে “আন্তজার্তিক নারী দিবস” হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। ১৯৭৬-১৯৮৫ জাতিসংঘ নারী দশক ঘোষণা করে এবং ১৯৭৯ সালে ”নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যবিলোপ সনদ -সিডও” ঘোষণা করে যা ১৯৮১ সাল থেকে কার্যকর হয়। বাংলাদেশ সরকার এই সনদে স্বাক্ষরকারী একটি রাষ্ট্র।
কেমন আছে আমাদের দেশের নারীরা
এ বছর ৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ১১০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। মানুষ হিসেবে একজন নারী সামাজিক কর্মকান্ডের বিভিন্ন ধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফ্রান্সের প্যারি কমিউন, ফরাসি বিপ্লব, মে দিবসের শ্রমিক আন্দোলনসহ ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম, ৫২’ র ভাষা আন্দোলন, মুক্তিুযুদ্ধ ও স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনসহ প্রত্যেকটি সংগ্রামে নারীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। কিন্তু, কাঙ্খিত লক্ষ্য নারী সমাজ আজও অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সর্বত্র নারীসমাজ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। সেজন্য এবার নারীদিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হয়ে উঠেছে “প্রত্যেকের জন্য সমানাধিকার”।
বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নারীসমাজ কর্মক্ষেত্রে-খেলাধূলায়- শিক্ষায় নারীরা সাফল্য অর্জন করেছে। নারীদের এই সাফল্যকে ম্লান করে দেয় বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থা ও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা। নারীর অবস্থানকে কোনভাবেই এই সমাজ স্বীকৃতি দিতে চায় না। সবসময় নারীকে হেয় প্রতিপন্ন করার মধ্য দিয়ে পিতৃতান্ত্রিকতা তার পশ্চাৎপদ অবস্থানকে ধরে রাখতে চায়। এই পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার নিকৃষ্টতম উদাহরণ হলো নারীর উপর পাশবিক সহিংসতা যা ধর্ষণ নামে অভিহিত। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের তথ্য মতে এই বছর জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রায় ২১১ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরীরাই বেশি ধর্ষণের শিকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, প্রতি ৪ জন নারীর মধ্যে ১ জন নারী স্বামীর কর্তৃক নির্যাতিত। কিন্তু ধর্ষণ বা নির্যাতন কোনটিরই সুষ্ঠু বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণে অপরাধীরা নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়ায় যা এই বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থার ফল। প্রতিবছর নারী দিবস যেন নারীর অধীনতা ও বৈষম্য প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে সেই স্বপ্নই বাংলাদেশের নারী সমাজ দেখবে বলে আশা করছি।
আমরা বাংলাদেশের নারীরা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সমাজের সর্বত্র সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আমাদের দেশের পারিবারিক আইন (বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব নির্ধারণ ও উত্তরাধিকার আইন) বৈষম্যমূলক। এছাড়াও সরকার ১৯৮৪ সালে ২ও ১৬ (১ )(গ) সংরক্ষণ রেখে সিডও সনদ স্বাক্ষর করেছে। অনুচ্ছেদ ২ এ নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য বিলোপ এবং ১৬(১) (গ) তে বিবাহ ও বিচ্ছেদকালে নারী এবং পুরুষের একই অধিকার এবং দায়িত্ব এর কথা বলা হয়েছে । এই দুইটি ধারা সংরক্ষণ রেখে সিডও সনদের পূর্ণস্বীকৃতি ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সেজন্য নারীসমাজের পক্ষ থেকে সিডও সনদের পূর্ণস্বীকৃতি ও বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপন করা হলেও তা উপেক্ষিত হয়েছে বার বার।
জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণীত হলেও সেখানে সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমঅধিকার নীতি হিসেবে ঘোষিত হয়নি। সংবিধানের ২৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে – কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী,বর্ণ-নারী-পুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। কিন্তু নারী উন্নয়ন নীতিমালা ও পারিবারিক আইন সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। ফলে শুধু নারী দিবসেই নারীর অধিকার নিয়ে দাবি উত্থাপন করলে নারীর সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এর জন্য ধারাবাহিক নারী আন্দোলন প্রয়োজন। ৮ মার্চ তথা আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের সেকথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তাই নারীদিবস আমাদের সকলের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।
“নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ তেমনি বাংলাদেশে নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও এক উজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত। কিন্তু নারী দিবসের সেই উজ্বল দৃষ্টান্তকে ¤øান করে দেয়ার জন্য বিভিন্ন বানিজ্যিক কোম্পানী নারী দিবসকে পন্যের বিজ্ঞাপনের দিন হিসেবে ব্যবহার করছে। সাবান, ক্রিম ও রাধুনী মসলাসহ বিভিন্ন পন্যের বিজ্ঞাপনে নারীকে উপস্থাপন করে নারীর মর্যাদাকে যেমন ভুলুন্ঠিত করছে তেমনি নারী দিবসের মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করছে। যে সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এই দিবস, তার যর্থার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সঠিক ধারার নারী আন্দোলনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হবে। আসুন, সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই নারীমুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করি। ”
তথ্যসূত্র:
১. ক্লারা জেটকিন-শ্যামলী গুপ্ত
২. আটই মার্চ -আন্তর্জাতিক নারী দিবস – নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা
৩. ইন্টারনেট
৪. দৈনিক প্রত্রিকা
লেখক: মর্জিনা খাতুন
নারী অধিকার কর্মী